আজকে আমি আপনাদের মাঝে কয়েকটি ঘরোয়া উপায়ে ঠোট কিভাবে গোপালি করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করবো। অনেক সময় দেখা যায় কারো কারো ঠোট স্বাভাবিকের অনেক বেশি কালো তা কেন হয়?  কালো হলে করনীয় কি  ? চলুন তাহলে দেখা যাক কিভাবে কালো ঠোট গোপালি করা যায়।


১। লেবু এবং মধুর মিশ্রণ। সমপরিমান লেবুর রস এবং মধু মিশিয়ে একটা পেষ্ট তৈরি করেন। প্রতিদিন দুইবার তা কালো ঠোটে ব্যবহার করেন।  ঠোটে লাগায়ে ৩০ মিনিট রেখে পরিষ্কার রুমাল বা ঠান্ডা পানি দিয়ে ধূয়ে ফেলুন বা মুছে ফেলুন। একই নিয়মে ৭ দিন পযর্ন্ত করেন।  ইনশাআল্লাহ আপনার কালো ঠোট গোলাপি হয়ে যাবে।


২। চিনি এবং সাদা টুথপেষ্ট।

পরিমান মত চিনি এবং  সাদা টুথপেষ্ট মিশিয়ে একটা পেষ্ট তৈরি করেন। দৈনিক দুইবার কালো ঠোটে ব্যবহার করেন।  ঠোটে লাগায়ে ১০ মিনিট রেখে পরিষ্কার রুমাল বা ঠান্ডা পানি দিয়ে ধূয়ে ফেলুন বা মুছে ফেলুন। একই নিয়মে এক সপ্তাহ ব্যবহার করেন। আপনার কালো ঠোট গোলাপি হয়ে যাবে।


৩। শুধু লেবুর রস।

প্রাকৃতিক ব্লিচিং উপাদান হিসাবে লেবু বহু পরিচিত ।  অনেক সময় দেখা যায় কিছু ছেলে আছে যারা ধূমপান করেনা কিন্তু ঠোট কালো আবার অনেক সময় দেখা যায় মেয়েদের ঠোট আগে কালো ছিল না কিন্তু আস্তে আস্তে কালো হয়ে যাচ্ছে। মেয়েদের ক্ষেত্রে তার কারন হচ্ছে আজেবাজে লিপিষ্টিক বা লিপলোজ ব্যবহার করার জন্য। তারা খুব সহজেই চাইলে কালো ঠোট গোপালি করতে পারেন। তারজন্য উপরের যে কোন একটি পদ্ধতি অনুসরণ করলেই হবে।  এছাড়াও শুধু লেবু টুকরো করে প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঠোটে লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।  একই নিয়েমে ১৫ দিন করেন। ইনশাআল্লাহ ঠোট গোলাপি হয়ে যাবে।


৪।আলমণ্ড অয়েল ও লেবুর রস:

দৈনিক দুইবার রাতে এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে ঠোঁটে মধু লাগালে ঠোঁট গোলাপি হয়।সমপরিমাণ আলমণ্ড অয়েলর সাথে লেবুর রস মিশিয়ে আপনার ঠোঁটে ম্যাসেজ করুন। তারপর ১৫ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন বা মুছে ফেলুন আপনার ঠোঁট নরম ও পরিষ্কার হবে।

গোলাপের পাপড়ির মত ঠোঁট করতে চাইলে ?গোলাপ এর পাপড়ি নিয়মিত ব্যবহার করুন। কিছু গোলাপের পাপড়ি নিন এবং খাটি দুধে ভিজিয়ে রাখুন (উল্লেখ প্যাকেটের দুধে হবেনা) দুই থেকে তিন ঘন্টা পর পাপড়ি গুলো বেটে নিয়ে একটা পেস্ট তৈরি করুন। এতে কয়েক ফোঁটা মধু বা আর গ্লিসারিন মিশান । এবার পেস্ট টা আপনার ঠোঁটের উপর ১৫ মিনিট রেখে দেন। এক টুকরো তুলা দুধে ভিজিয়ে পেস্টটি তুলে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে আপনার ঠোট গোপালি হয়ে যাবে।


৫।গ্লিসারিন ও লেবুর রস ।

ভালো কম্পনীর গ্লিসারিন যেমন মেরিল  গ্লিসারিন কিনে নেন । অনেক সময় শুষ্ক ঠোঁট দ্রুত রোদের সংস্পর্শে এসে কালো হয়। তুলোতে খানিকটা গ্লিসারিন এবং লেবুর রস একসাথে মিশ করে নিন তারপর ঘুমুতে যাবার আগে ঠোঁটে লাগান। সকালে সাদা পেষ্ট (যেমন pepsodent ) আবার ঠোটে লাগান । এভাবে ঠোঁটের শুষ্কতা ও কালচে ভাব দুটোই কমে আসবে। আবার রাত্রে ঘুমাতে যাওয়ার আগে গ্লিসারিন এবং লেবুর পেষ্ট তা তুলোয় করে ঠোঁটে লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। এটি দৈনিক দুইবার করেন। সাদা পেষ্ট ঠোটে লাগিয়ে  আস্তে আস্তে ব্রাশ করুন। এজন্য ব্রাশ টিকে অবশ্যই নরম হতে হবে । কারন  অনেক হালকা ভাবে ব্রাশ করতে হয়।


ঠোট কালো কেন হয়  ?


ঠোট আমাদের দেহের একটি আকর্ষণীয় অংশ।  ঠোট যদি কালো হয় তাহলে দেখতে খুবই বাজে দেখায়। আজকে আমরা জানবো কিভাবে ঠোট কালো হওয়া থেকে বাঁচতে পারি। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।

১। নিম্নমানের কসমেটিক্স সামগ্রী ব্যবহার করলে যেমনঃ লিপিষ্টিক,  লিপলোজ,  লিপলাইনার, লিপবাম ইত্যাদি।

২। ধূমপান করলে।

৩। অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করলে।

৪। রৌদে বেশি সময় ঘুড়াফেরা করলে।

৫। বংশগত সমস্যার কারনে।

৬। হরমন জাতীয় সমস্যার কারনে।

৭। নিম্নমানে পেষ্ট দিয়ে ব্রাশ করলে।

৮। ঠিকমত পরিষ্কার না করলে অনেক শুধু ব্রাশ করে ঠিক ঠোট পরিষ্কার করেনা । তখন আস্তে আস্তে ঠোট কালো হয়ে যায়।

৯। অতিরিক্ত গরম জাতীয় খাবার খেলে যেমন চা, কপি ইত্যাদি।

১০। অতিরিক্ত নেশা করলে যেমনঃ মধ্যপান, সিগারেট ইত্যাদি। 

Post a Comment

أحدث أقدم