ত্বককে সুন্দর সুস্থ রাখার জন্য আমরা অনেক কিছু ব্যবহার করে থাকি। কখনো ব্যবহার করি ফেসপ্যাক আবার কখনো করি বিভিন্ন প্রকার ফেসিয়াল। তবে সৌন্দর্যের আসল রহস্য রয়েছে প্রাকৃতিক উপাদানের মধ্যে যা নিম্নমানের প্রসাধনী থেকে কখনো পাওয়া সম্ভব না । আদিকাল থেকে ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার হয়ে আসছে। কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়া সবধরনের ত্বকের সাথে মানিয়ে যায় প্রাকৃতিক উপাদান গুলো । ঘরোয়া ভাবে আয়ুর্বেদিক ফেসপ্যাক তৈরি করা সম্ভব এবং খুবই সহজ । তাই আজ কিছু আয়ুবেদিক ফেসপ্যাক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।  ইনশাআল্লাহ্‌ খুবই কাজে আসবে পুরোটা পড়ার অনুরোধ রইলো।


১। গাঁদা ফুলের প্যাক ।


গাঁদা ফুল ত্বকের যত্নে খুবই উপকারী একটি ফুল। ত্বকের দ্রুত উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে গাঁদা ফুলের ফুলের ফেসপ্যাক খুবই কার্যকরী । কয়েকটি গাঁদা ফুলের পাপড়ি কাঁচা দুধ এবং এক টেবিল চামচ মধু একসাথে মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করা যায় গাঁদা ফুলের ফেসপ্যাকটি ত্বকে ব্যবহার করে ৩০ মিনিট রাখুন । শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলুন বা মুছে ফেলুন । গাঁদা ফুলের অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি সেপটিক উপাদান ত্বকের অ্যালার্জি দূর করে । নিয়মিত ব্যবহার করলে অল্পদিনেই ত্বক দ্বিগুণ ফর্শা এবং আকর্ষণীয় হবে।


২। মধু,  গোলাপজল এবং মুলতানি মাটি।


পরিমান মত মধু এবং মুলতানি মাটি এবং গোলাপজল নিয়ে ভালোভাবে তিনটা একটা মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করা যায়। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার এই ফেসপ্যাক টি নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক খুবই উজ্জ্বল ও ফর্শা হয়। উল্লেখ গোলাপজলের পরিবর্তে সাধারণ পানিও ব্যবহার করা যাবে তবে সেইক্ষেতে রেজাল্ট তেমন ভালো আসবে না।


৩। হলুদ এবং বেসনের প্যাক।


৪ টেবিল চামচ বেসনের সাথে আধা চামচ হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে নেন। এর সাথে কাচা গাভীর খাঁটি দুধ বা দুধের সর মিশিয়ে নেন। তারপরে ভালোভাবে সব গুলো মিশ করেন হয়ে গেল আপনার ফেসপ্যাক। 

ব্যবহারের নিয়মঃ

এই ফেসপ্যাক সপ্তাহে ১ বার ব্যবহার করেন। মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। তারপরে মুখে BB ক্রীম ব্যবহার করেন মুখ সাথে সাথে উজ্জ্বল এবং ফর্সা দেখাবে।


৪। চন্দের ফেসপ্যাক।


কিছু পরিমান চন্দের গুঁড়ার সাথে মুলতানি মাটি এবং গোলাপজল মিশিয়ে নেন। এই ফেসপ্যাকটি ত্বকে ব্যবহার করুন।

ব্যবহারের নিয়মঃ

প্রতি সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করুন। মুখে দিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলেন। এটা আপনাকে সাথে সাথে অনেকটা ফর্সা দেখাবে।


৫।অ্যারোমাটিক ফেসপ্যাক।


ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন অ্যারোমাটিক ফেসপ্যাক। যা ত্বকে দ্বিগুণ ফর্সা এবং আকর্ষণীয় দেখায়। এই প্যাক তৈরিও একদম সহজ এক চা চামচ চন্দের গুঁড়া ,দুই ফোটা রোজ অয়েল , এক চা চামচ ল্যাভেন্ডার অয়েল,  দুই টেবিল চামচ বেসন,  এক চিমটি পরিমান হলুদ গুঁড়া এবং দূধ বা দুধের সর দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নেন।  হয়ে গেল অ্যারোমাটিক ফেসপ্যাক।

ব্যবহার নিয়মঃ

প্রতি সপ্তাহ দুই বার ব্যবহার করুন।  ত্বকে দিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।


৬। লেবু এবং মধুর প্যাক ।


এই প্যাকটিতে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ময়েশ্চারাইজার। যা ত্বক ভিতর থেকে পরিষ্কার করে ত্বকে নিয়ে আসে উজ্জ্বলতা। এক টেবিল চামচ বিশুদ্ধ মধু এবং ৩-৫ ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করুন। 

ব্যবহারের নিয়মঃ ১৫-২০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পার্থক্য আপনি নিজেই দেখতে পাবেন। এটি মাসে ৩/৪ বার ব্যবহার করুন।


৭। আয়ুবেদিক স্ক্রাব তৈরি।

এক টেবিল চামচ চালের গুঁড়া, পরিমান মত চন্দের গুঁড়া, দুধ, বেসন, গোলাপজল মিশিয়ে তৈরি করে নিন আয়ুবেদিক স্ক্রাব। 

ব্যবহারের নিয়মঃ মুখ ভালো করে ফেসওয়াস দিয়ে ধুয়ে তারপরে ১০/১৫ মেসাজ করেন। রোমাল দিয়ে মুছে ফেলুন সাথে সাথে চেহারা উজ্জ্বল দেখাবে।

 

Post a Comment

Previous Post Next Post