অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল বহু পরিচিত একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা অসাধারণ বটিকা হিসাবে হাজার বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে । শরীল থেকে শুরু করে খাবার তৈরিতে মোক্ষম এই উপাদান । এই তেলে পুষ্টিগুণ এবং স্বাস্থ্যকর উপাদান থাকায় দিন দিন এই তেলের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে।  অলিভ অয়েল অতিরিক্ত শুস্ক,  ছোপ ছোপ ত্বকে কোমল মসৃণ ও আকর্ষণীয় করে তুলে। ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায় এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। এছাড়াও হৃদরোগীদের জন্য অলিভ অয়েল খুবই উপকারি। 


নিচে অলিভ অয়েল বা জলপাই তেলের গুনাগুন সম্পর্কে আলোচনা করা হল।


১। শিশুর ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েল।

জলপাই তেল যে কোন ত্বকের জন্য খুবই উপকারি তেল। এই তেল ত্বকে দিলে খুবই ভালো উপকার পাওয়া যায়। শিশুর ত্বকেও নিরাপদ এই জলপাই তেল। শিশুদের নিতম্ব থেকে রেশ দূর করতে সামান্য অলিভ অয়েল তেল মাখিয়ে দিন। এছাড়াও যাদের ত্বকে খাজলি বা চুলকানি আছে তারাও জলপাই তেল নির্দ্বিধায় ব্যবহার করতে পারবেন। অলিভ অয়েল অতিরিক্ত শুস্ক,  ছোপ ছোপ ভাব দূর করে মসৃণ ও কোমল করে তোলে।


২। ডায়াবেটিস রোগীদের অলিভ অয়েল।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অলিভ অয়েল খুবই উপকারি। যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য অন্য তেল পরিহার করে অলিভ দিয়ে খাবার তৈরি করে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।


৩। হৃদরোগীদের জন্য অলিভ অয়েল।

অনিয়মিত জীবন যাপনের কারনে দিন দিন হৃদরোগীর হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। যারা বেশি ফাষ্টফুট জাতীয় খাবার খান তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি। কারন ফাষ্টফুট জাতীয় খাবার গুলো তৈরি হয় বেশিরভাগই সয়াবিন তেল দিয়ে। এইজন্য যারা নিয়মিত অলিভ অয়েল গ্রহন করেন তাদের হৃদরোগ হওয়ার সম্ভবনা খুবই কম থাকে।


৪। উচ্চ রক্তচাপ কমায়।

যারা নিয়মিত অলিভ অয়েল সেবন করেন তাদের উচ্চা রক্তচাপ ঝুঁকি কম থাকে এবং উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা কমিয়ে রাখে।


৫। ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

গবেষণায় দেখা গেছে অলিভ অয়েল সেবনে ক্যান্সারের কোষ গুলোর বৃদ্ধিতে বাঁধা সৃষ্টি করে। কারন এই তেলে অ্যান্টি ক্যান্সার বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে। অলিভ অয়েলে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ফ্রি রডিকেল ধ্বংস করে। যা ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি বা উপাদান। 


৬। শিশুর শীতের সময় ঠান্ডা, জ্বর কমায়।

শীতের সময় অনেক শিশুর ঠান্ডা জ্বর দেখা দেয়। অলিভ অয়েল তেলটি খুবই শুস্ক এটা নিয়মিত শিশুর ত্বকে ব্যবহার করলে ঠান্ডা জ্বর কম হয়।


৭। চুল পড়া কমাতে জলপাই তেল।

জলপাই তেল একটি প্রাকৃতিক উপাদান। জলপাই তেল নিয়মিতভাবে মাথায় ব্যবহার করলে চুলপড়া, খুসকি, এইসব সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়। ছাড়াও অলিভ অয়েল নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল কোকরানো সমস্যা সমাধান হয়।


৮। সৌন্দর্য ফিরে আনতে।

জলপাই তেলের সাথে টকদই, বেসন , লেবুর রস ইত্যাদি একসাথে মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে বডিতে ম্যাসেজ করে কিছুক্ষণ রেখে তারপরে গোসল করলে ত্বক উজ্জ্বল হবে।


সুতরাং জলপাই তেল একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এর রয়েছে একাধিক গুনাবলী। নিয়মিত জলপাই তেল ব্যবহার করি সুস্থ থাকি।

Post a Comment

أحدث أقدم